দুঃখ বিলাস
জনালা দিয়ে আকাশের দিকে উদ্ভ্রান্ত মনে তাকিয়ে আছি। কাল ল্যাব এ একটি প্রোজেক্ট জমা দিতে হবে। অথচ কাজ করতে ইচ্ছে করছেনা। স্নিগ্ধ হাওয়ায় আকাশে চাঁদের সাথে মেঘের খুনসুটি দেখছি।ঝুম বৃষ্টি শুরু হল। আমি তবুও আকাশ দেখতে থাকি। এই মুহূর্তে মনটি খুব খারাপ। ভালবাসার নিষ্ঠুর চপঘাতে জর্জরিত এক মানবির কথা ভাবছিলাম। যার প্রতিটি মুহূর্ত কাটে এক অনাবিল দুঃখ স্রোতে। বাস্তবতার নির্মম পরিহাসে জর্জরিত ভিত্তিহীন পথযাত্রি এই মেয়েটি। সবার মত ভালবাসার মোহে আকৃষ্ট হয়ে সেও ভালবেসেছিল কাঙ্খিত এক ভাগ্যবান ছেলে কে। বলছি বাবা মায়ের ভালবাসা এবং আদরের এই ছোট্ট মেয়েটির জীবনের কথা।
ক্লাস সেভেন। এই সময় মানুষের মনের পরিবর্তন ঘটে দ্রুত। চারপাশের জগত কে নতুন করে দেখার অকৃতিম ইচ্ছা ছেয়ে বসে অনেকেরই । যেমনটি ঘটেছিলো মৌমি এর।
ক্লাস টেন এর একটি ছেলে, নাম রেজা, তার দিকে অপলকে তাকিয়ে থাকতো। মায়াবি এই চেহারা তে কি ছিল জানিনা, তবে খারাপ লাগত না মৌমির । প্রথম প্রথম মেজাজ খারাপ হত। কিন্তু এটি কখন যে ভালবাসায় উদ্ধপাতিত হল তা এই ছোট্ট মেয়েটির ভাবনার অন্তরায় ছিল। শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। স্বপ্ন পুরুষের এক বন্ধুর সাথে বেশ ভালই যোগাযোগ ছিল মৌমির। তার মাধ্যমেই ছেলেটির কাছথেকে আসে ভালবাসার কথা। ছেলেটির এই প্রস্তাবে সারাদিতে বিন্দুমাত্রও ভাবতে হয়নি হয়ত মৌমিকে । মন যেন একা একায় সারা দিয়ে ফেললো। আর শুরু হল ভালবাসার নতুন এক গল্পমালা।
এর পরবর্তী সময় টুকু ছিল ছোট্ট এই মেয়েটির কাছে সপ্নের মত। সবসময় ভাবনা জুড়ে শুধু রেজা আর রেজা। সারাক্ষণ কথা হত দুজনের। কত নির্ঘুম রাত যে ওরা পার করেছে তার কোন হিসাব মহাকালের গণ্ডিতে আছে কিনা জানা নেই। মৌমিকে অনেক ভালবাসত রেজা। আর মৌমি ... তার জীবনের ভার ছেড়ে দিয়েছিলো রেজার উপর।
অনেক কাছে চলে এসেছিল একে অপরের ওরা। অথচ নিজেদের মধ্যে সেভাবে দেখায় হয়নি তাদের।
মৌমির জন্মদিন চলে আসে। বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে ছোটখাট একটি পার্টি এর আয়োজন করে। সবায় কে নিয়ে যখন বাস্ত তখনই ফোন আসে রেজার। তার সাথে দেখা করতেই হবে। এক অদ্ভুত ভাললাগার সৃষ্টি হয় মৌমির । ভালবাসার মানুষটির সঙ্গ পেতে সবকিছু ভুলে ছুটে চলে গেল রেজার কাছে। সাথে কিছু বন্ধু ছিল মৌমির । গিয়ে দেখে একটি গোলাপ হাতে দারিয়ে রেজা। বাড়িয়ে দিল রেজার হাত। হাতে নিয়ে দেখল গোলাপের পাপড়ি গুলো শুকনা।
পাশ থেকে কেউ একজন সুখীয়ে যাওয়া গোলাপের কথা জিজ্ঞেশ করলো।।
রেজার উত্তর “ ভালবাসা কাউ কে প্রকাশ করতে হয়না। ভালবাসা মনের ব্যাপার।আমি কালকে রাত বারোটায় ফুল গুলো দিতে চেয়েছি। কিন্তু কোন পথ খুজে পায়নি। তাই ফুল গুলো শুখিয়ে গেছে।
ফুলের সাথে আরও একটি গিফট দিয়েছিলো মৌমি কে । মৌমিও কিছু চকলেট দিয়েছিলো রেজাকে। অনেক সুন্দর কিছু মুহূর্ত কে জলাঞ্জলি দিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাসায় ফিরতে হল।
সেই থেকে পিছে তাকাতে হয়নি কখনো ওদের। সারাক্ষণ ফোনে কথা হত ওদের। বাস্ততার কারনে যখন মৌমি ঠিক মত ফোন দিতে পারত না, ওদিক থেক রেজা পাগলের মত হয়ে যেত। একে অপরকে ছেড়ে থাকতে পারত না ওরা।
মৌমিকে না দেখে থাকতে পারত না রেজা। মৌমি ও পারত না। প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে মৌমির জানালায় এসে দাড়িয়ে থাকতো রেজা মৌমি কে না দেখে কিছুতেই ঘুমাবেনা। রেজার এই ভাললাগাময় ছেলে মানুষী মোহিত করতো মৌমিকে। ভাললাগার এক অনাবিল স্বর্গসুখে ভেসে যেত ছোট্ট এই মেয়েটি।
বন্ধু মহলের পাল্লায় পরে মাঝে মাঝে সিগারেট খেত রেজা। মৌমির অনুরধে তাও ছেড়ে দিল। রেজার যে বন্ধুতি তার ভালবাসায় সহযোগিতা করেছিল মাঝ পথে সেই বন্ধুটি বেকে বসলো। কিছুতেই রেজা কে মৌমির হতে দিবেনা। মৌমিকে পাওয়ার জন্য সবকিছু ছেড়ে দিল রেজা। মৌমি কেন্দ্রিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেল।
রেজার সাথে নিয়মিতই দেখাহত । মায়াবি চেহারার এই ছেলেটিকে দেখে সবকিছু ভুলে যেত মৌমি। কল্পনা এবং বাস্তবতার মাঝে যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা তেও বার্থ হত। সেদিন কয়েকটি বন্ধু মিলে পার্কে বসে ছিল তারা। চলে যাওয়ার মুহূর্তে যখন মৌমি রাস্তা পার হতে যাবে তখনই তার স্নিগ্ধ কমল হাতে রেজার স্পর্শ পেল।মুখের সামনের চুল গুলো যখন সরিয়ে দিচ্ছিল রেজা তখন লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া মেয়েটি ইচ্ছার বিরুদ্ধে হাত টি সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু রেজা বলল “ তুমি একা একা পার হচ্ছ কেন ? আমি আছিনা???”
ছোট্ট মেয়েটির শরীরে ঢেউ খেলে গেল এক চরম ভাললাগায়। আর কি চাই??? সব কিছু ভুলে হারাতে চলল রেজার দিক প্রান্তে।
কিছুদিন পর রেজার এইচ এস সি এর রেসাল্ট দেয়। কিন্তু ভাল হয়না। এর জন্য কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হয়না।মন খারাপ থাকে সবসময় রেজার। এর মাঝে চলে আসে মৌমির এস এস সি পরীক্ষা। পরীক্ষার মাঝে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পরে মৌমি। অনেক মেন্টাল সাপোর্ট দিত রেজা। যা আজও মৌমির মানসপটে সুস্পষ্ট ভাসমান।
রেসাল্ট দিয়ে দিল মৌমির। কিন্তু ভাল হল না। অনেক ভেঙ্গে পড়লো প্রান চঞ্চল মেয়েটি। রেসাল্ট খারাপ হয়াতে কিছু পরিবর্তন আসে মৌমির। প্রাঞ্চল হরিণীর মত মেয়েটির হটাত ভেঙ্গে পরা কিছুতেই মানতে পারত না। অনেক বোঝাতো মৌমিকে।
এক রাতে মৌমি ফোন দেয় রেজা কে। কিন্তু অনেক শব্দ। নেটওয়ার্ক এর কারনে কথা বলতে পারেনা। বুঝতে পারেনা মৌমি। পরের দিন সকালে ফোন দেয় রেজাকে। জানতে পারে মৌমি কে না বলে রেজা ঢাকায় গেছে। মৌমি তখন অনেক কেঁদে ফেলে। যে মানুষটিকে এত ভালবাসে , তার এই সুনিপুন আক্রমন ও সহ্য করতে পারেনা, তাই তার আকাশ থেকে ঝরে পরে দুঃখ অশ্রু । তখন রেজা বলে তোমাকে বললে মন খারাপ করতে্ তাই বলিনি।
কিছুদিন পর থেকে বদলে গেল রেজা। আগের রেজা এই রেজা থেকে আলোকবর্ষ দূরে। মৌমি ও বুঝতে পারলো। চিন্তিত হল। জানতে চাইল রেজাকে... কিন্তু কৌশলে এড়িয়ে চলল। অবুঝ এই মেয়েটি কিছুই বুঝতে পারেনা। ফোন এর উপর ফোন দিয়ে যায় রেজা ধরে না। ফেসবুকে এসএমএস পাঠায়, কোন রিপ্লায় দেয়না।
একদিন রেজা তাকে পাঠায় ।“ আমি কাউকে কষ্ট দিতেও চাইনা
পেতেও চাইনা
ফরগিভ মি...। সরি...
মৌমি তারপরেও অনেক খোঁজ নেই, সম্ভাব্য সবাই কে ফোন করে। কিন্তু পাইনা ...।। এভাবে আস্তে আস্তে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। কেমন আছে রেজা?? কি করছে??? জানার জন্য ছটফট করে সবসময়। কিন্তু নিষ্পাপ এই মেয়েটির করুন আকুতি কারর কাছে পৌছায় না। ভালবাসার মানুষটির এই হটাত পরিবর্তনে মৌমি নিজেকে হারিয়ে ফেলে।
যে রঙ্গিন সপ্ন মৌমি দেখত তা যেন ধিরে ধীরে নিঃশেষ হতে থাকে...।। এই অবুঝ মেয়েটি অসুস্ত হয়ে যায়। এততাই অসুস্ত হয় যে কিছুদিন পর তাকে পাওয়া যায় এপোলো হসপিটাল এ। একটি মেয়ে ভালবাসার মানুষের হটাত পরিবর্তনে এতটা ভেঙ্গে পরতে পারে, ?? কত ভালোবাসতো মেয়েটি রেজাকে...।
কিছুদিন পর মৌমি সুস্থ হয়... আবার জানার চেষ্টা করে রেজাকে। রেজাকে এসএমএস করে ফেবুতে ...। কিন্তু রেজা ব্লক করে দেয়।
রেজার একটি ফ্রেন্ড কে মৌমি ফোন দেয়। জানতে চাই রেজাকে??? অনেক কাকুতিমিনতির পর ঐ ফ্রেন্ডটি মৌমি কে যা বলে তা শুনে পা থেকে মাটি সরে যায় মৌমির। মনে হয় পুরো পৃথিবী যেন তার মাথার উপরে।
মৌমি জানতে পারে রেজা বিবাহিত। তখন থেকে আর মৌমি কে অন্যরকম লাগে।সবশেষে রেজা মৌমি কে তার সাথে যোগাযোগ করতে নিশেধ করে। অনেক খারাপ ব্যবহার করে...
ভালবাসার জন্য আজ সে পুরায় নিজেকে উৎসর্গ করেছে । তার প্রতিটি অশ্রু বিন্দু সাক্ষি হয়ে আছে, তার এই হাহাকার, আজ ভালবাসার অস্তিত্ব কে জানান দেয়্...।। হে আল্লাহ কি দোষ করেছিল এই ছোট্ট মেয়েটি...।??? কেন এত বড় প্রতারনার শিকার হল আজ সে???
তার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস এর সাক্ষী মহাকালের হিসেবে লিখা আছে। রেজা আপনি যেখানে থাকুন না কেন...। এই দীর্ঘশ্বাসের প্রতিদান আপনাকে দিতেই হবে...। কি দোষ করেছিল এই মেয়েটি??? আপনাকে ভালবেসেছিল শুধু... এই যদি তার অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে তার হৃদয় ভেঙ্গে আজ যে ক্ষতিটি করলেন তার ক্ষমা আপনি পাবেন কিনা জানিনা...... জানেন মৌমি এখনো আপনাকে ভালবাসে, এখনো ওর হৃদয়ে শুধু আপনি। সব সময় চায় আপনি ভালো থাকুন... কিন্তু আপনি কি আসলেই ভাল থাকবেন্,... মহাকালের কাছে আমার প্রশ্ন রয়ে গেল...।।
মৌমি আজও আপনার অপেক্ষায় থাকে
কিন্তু সে জানে আপনি তার অপেক্ষায় থাকেন না।
ক্লাস সেভেন। এই সময় মানুষের মনের পরিবর্তন ঘটে দ্রুত। চারপাশের জগত কে নতুন করে দেখার অকৃতিম ইচ্ছা ছেয়ে বসে অনেকেরই । যেমনটি ঘটেছিলো মৌমি এর।
ক্লাস টেন এর একটি ছেলে, নাম রেজা, তার দিকে অপলকে তাকিয়ে থাকতো। মায়াবি এই চেহারা তে কি ছিল জানিনা, তবে খারাপ লাগত না মৌমির । প্রথম প্রথম মেজাজ খারাপ হত। কিন্তু এটি কখন যে ভালবাসায় উদ্ধপাতিত হল তা এই ছোট্ট মেয়েটির ভাবনার অন্তরায় ছিল। শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। স্বপ্ন পুরুষের এক বন্ধুর সাথে বেশ ভালই যোগাযোগ ছিল মৌমির। তার মাধ্যমেই ছেলেটির কাছথেকে আসে ভালবাসার কথা। ছেলেটির এই প্রস্তাবে সারাদিতে বিন্দুমাত্রও ভাবতে হয়নি হয়ত মৌমিকে । মন যেন একা একায় সারা দিয়ে ফেললো। আর শুরু হল ভালবাসার নতুন এক গল্পমালা।
এর পরবর্তী সময় টুকু ছিল ছোট্ট এই মেয়েটির কাছে সপ্নের মত। সবসময় ভাবনা জুড়ে শুধু রেজা আর রেজা। সারাক্ষণ কথা হত দুজনের। কত নির্ঘুম রাত যে ওরা পার করেছে তার কোন হিসাব মহাকালের গণ্ডিতে আছে কিনা জানা নেই। মৌমিকে অনেক ভালবাসত রেজা। আর মৌমি ... তার জীবনের ভার ছেড়ে দিয়েছিলো রেজার উপর।
অনেক কাছে চলে এসেছিল একে অপরের ওরা। অথচ নিজেদের মধ্যে সেভাবে দেখায় হয়নি তাদের।
মৌমির জন্মদিন চলে আসে। বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে ছোটখাট একটি পার্টি এর আয়োজন করে। সবায় কে নিয়ে যখন বাস্ত তখনই ফোন আসে রেজার। তার সাথে দেখা করতেই হবে। এক অদ্ভুত ভাললাগার সৃষ্টি হয় মৌমির । ভালবাসার মানুষটির সঙ্গ পেতে সবকিছু ভুলে ছুটে চলে গেল রেজার কাছে। সাথে কিছু বন্ধু ছিল মৌমির । গিয়ে দেখে একটি গোলাপ হাতে দারিয়ে রেজা। বাড়িয়ে দিল রেজার হাত। হাতে নিয়ে দেখল গোলাপের পাপড়ি গুলো শুকনা।
পাশ থেকে কেউ একজন সুখীয়ে যাওয়া গোলাপের কথা জিজ্ঞেশ করলো।।
রেজার উত্তর “ ভালবাসা কাউ কে প্রকাশ করতে হয়না। ভালবাসা মনের ব্যাপার।আমি কালকে রাত বারোটায় ফুল গুলো দিতে চেয়েছি। কিন্তু কোন পথ খুজে পায়নি। তাই ফুল গুলো শুখিয়ে গেছে।
ফুলের সাথে আরও একটি গিফট দিয়েছিলো মৌমি কে । মৌমিও কিছু চকলেট দিয়েছিলো রেজাকে। অনেক সুন্দর কিছু মুহূর্ত কে জলাঞ্জলি দিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাসায় ফিরতে হল।
সেই থেকে পিছে তাকাতে হয়নি কখনো ওদের। সারাক্ষণ ফোনে কথা হত ওদের। বাস্ততার কারনে যখন মৌমি ঠিক মত ফোন দিতে পারত না, ওদিক থেক রেজা পাগলের মত হয়ে যেত। একে অপরকে ছেড়ে থাকতে পারত না ওরা।
মৌমিকে না দেখে থাকতে পারত না রেজা। মৌমি ও পারত না। প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে মৌমির জানালায় এসে দাড়িয়ে থাকতো রেজা মৌমি কে না দেখে কিছুতেই ঘুমাবেনা। রেজার এই ভাললাগাময় ছেলে মানুষী মোহিত করতো মৌমিকে। ভাললাগার এক অনাবিল স্বর্গসুখে ভেসে যেত ছোট্ট এই মেয়েটি।
বন্ধু মহলের পাল্লায় পরে মাঝে মাঝে সিগারেট খেত রেজা। মৌমির অনুরধে তাও ছেড়ে দিল। রেজার যে বন্ধুতি তার ভালবাসায় সহযোগিতা করেছিল মাঝ পথে সেই বন্ধুটি বেকে বসলো। কিছুতেই রেজা কে মৌমির হতে দিবেনা। মৌমিকে পাওয়ার জন্য সবকিছু ছেড়ে দিল রেজা। মৌমি কেন্দ্রিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেল।
রেজার সাথে নিয়মিতই দেখাহত । মায়াবি চেহারার এই ছেলেটিকে দেখে সবকিছু ভুলে যেত মৌমি। কল্পনা এবং বাস্তবতার মাঝে যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা তেও বার্থ হত। সেদিন কয়েকটি বন্ধু মিলে পার্কে বসে ছিল তারা। চলে যাওয়ার মুহূর্তে যখন মৌমি রাস্তা পার হতে যাবে তখনই তার স্নিগ্ধ কমল হাতে রেজার স্পর্শ পেল।মুখের সামনের চুল গুলো যখন সরিয়ে দিচ্ছিল রেজা তখন লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া মেয়েটি ইচ্ছার বিরুদ্ধে হাত টি সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু রেজা বলল “ তুমি একা একা পার হচ্ছ কেন ? আমি আছিনা???”
ছোট্ট মেয়েটির শরীরে ঢেউ খেলে গেল এক চরম ভাললাগায়। আর কি চাই??? সব কিছু ভুলে হারাতে চলল রেজার দিক প্রান্তে।
কিছুদিন পর রেজার এইচ এস সি এর রেসাল্ট দেয়। কিন্তু ভাল হয়না। এর জন্য কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হয়না।মন খারাপ থাকে সবসময় রেজার। এর মাঝে চলে আসে মৌমির এস এস সি পরীক্ষা। পরীক্ষার মাঝে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পরে মৌমি। অনেক মেন্টাল সাপোর্ট দিত রেজা। যা আজও মৌমির মানসপটে সুস্পষ্ট ভাসমান।
রেসাল্ট দিয়ে দিল মৌমির। কিন্তু ভাল হল না। অনেক ভেঙ্গে পড়লো প্রান চঞ্চল মেয়েটি। রেসাল্ট খারাপ হয়াতে কিছু পরিবর্তন আসে মৌমির। প্রাঞ্চল হরিণীর মত মেয়েটির হটাত ভেঙ্গে পরা কিছুতেই মানতে পারত না। অনেক বোঝাতো মৌমিকে।
এক রাতে মৌমি ফোন দেয় রেজা কে। কিন্তু অনেক শব্দ। নেটওয়ার্ক এর কারনে কথা বলতে পারেনা। বুঝতে পারেনা মৌমি। পরের দিন সকালে ফোন দেয় রেজাকে। জানতে পারে মৌমি কে না বলে রেজা ঢাকায় গেছে। মৌমি তখন অনেক কেঁদে ফেলে। যে মানুষটিকে এত ভালবাসে , তার এই সুনিপুন আক্রমন ও সহ্য করতে পারেনা, তাই তার আকাশ থেকে ঝরে পরে দুঃখ অশ্রু । তখন রেজা বলে তোমাকে বললে মন খারাপ করতে্ তাই বলিনি।
কিছুদিন পর থেকে বদলে গেল রেজা। আগের রেজা এই রেজা থেকে আলোকবর্ষ দূরে। মৌমি ও বুঝতে পারলো। চিন্তিত হল। জানতে চাইল রেজাকে... কিন্তু কৌশলে এড়িয়ে চলল। অবুঝ এই মেয়েটি কিছুই বুঝতে পারেনা। ফোন এর উপর ফোন দিয়ে যায় রেজা ধরে না। ফেসবুকে এসএমএস পাঠায়, কোন রিপ্লায় দেয়না।
একদিন রেজা তাকে পাঠায় ।“ আমি কাউকে কষ্ট দিতেও চাইনা
পেতেও চাইনা
ফরগিভ মি...। সরি...
মৌমি তারপরেও অনেক খোঁজ নেই, সম্ভাব্য সবাই কে ফোন করে। কিন্তু পাইনা ...।। এভাবে আস্তে আস্তে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। কেমন আছে রেজা?? কি করছে??? জানার জন্য ছটফট করে সবসময়। কিন্তু নিষ্পাপ এই মেয়েটির করুন আকুতি কারর কাছে পৌছায় না। ভালবাসার মানুষটির এই হটাত পরিবর্তনে মৌমি নিজেকে হারিয়ে ফেলে।
যে রঙ্গিন সপ্ন মৌমি দেখত তা যেন ধিরে ধীরে নিঃশেষ হতে থাকে...।। এই অবুঝ মেয়েটি অসুস্ত হয়ে যায়। এততাই অসুস্ত হয় যে কিছুদিন পর তাকে পাওয়া যায় এপোলো হসপিটাল এ। একটি মেয়ে ভালবাসার মানুষের হটাত পরিবর্তনে এতটা ভেঙ্গে পরতে পারে, ?? কত ভালোবাসতো মেয়েটি রেজাকে...।
কিছুদিন পর মৌমি সুস্থ হয়... আবার জানার চেষ্টা করে রেজাকে। রেজাকে এসএমএস করে ফেবুতে ...। কিন্তু রেজা ব্লক করে দেয়।
রেজার একটি ফ্রেন্ড কে মৌমি ফোন দেয়। জানতে চাই রেজাকে??? অনেক কাকুতিমিনতির পর ঐ ফ্রেন্ডটি মৌমি কে যা বলে তা শুনে পা থেকে মাটি সরে যায় মৌমির। মনে হয় পুরো পৃথিবী যেন তার মাথার উপরে।
মৌমি জানতে পারে রেজা বিবাহিত। তখন থেকে আর মৌমি কে অন্যরকম লাগে।সবশেষে রেজা মৌমি কে তার সাথে যোগাযোগ করতে নিশেধ করে। অনেক খারাপ ব্যবহার করে...
ভালবাসার জন্য আজ সে পুরায় নিজেকে উৎসর্গ করেছে । তার প্রতিটি অশ্রু বিন্দু সাক্ষি হয়ে আছে, তার এই হাহাকার, আজ ভালবাসার অস্তিত্ব কে জানান দেয়্...।। হে আল্লাহ কি দোষ করেছিল এই ছোট্ট মেয়েটি...।??? কেন এত বড় প্রতারনার শিকার হল আজ সে???
তার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস এর সাক্ষী মহাকালের হিসেবে লিখা আছে। রেজা আপনি যেখানে থাকুন না কেন...। এই দীর্ঘশ্বাসের প্রতিদান আপনাকে দিতেই হবে...। কি দোষ করেছিল এই মেয়েটি??? আপনাকে ভালবেসেছিল শুধু... এই যদি তার অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে তার হৃদয় ভেঙ্গে আজ যে ক্ষতিটি করলেন তার ক্ষমা আপনি পাবেন কিনা জানিনা...... জানেন মৌমি এখনো আপনাকে ভালবাসে, এখনো ওর হৃদয়ে শুধু আপনি। সব সময় চায় আপনি ভালো থাকুন... কিন্তু আপনি কি আসলেই ভাল থাকবেন্,... মহাকালের কাছে আমার প্রশ্ন রয়ে গেল...।।
মৌমি আজও আপনার অপেক্ষায় থাকে
কিন্তু সে জানে আপনি তার অপেক্ষায় থাকেন না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন