স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন
চোখের পাতা বুজে আসছে ঘুমে। সারাদিনের অবিরত ক্লান্তির বহিপ্রকাশ হিসেবে ঘুমে ছেয়ে গেছে মৃন্ময়ীর দুটি চোখ। অথচ কিছুতেই ঘুমতে ইছছে করছে না তার। কিন্তু অবশ, অসাড় শরিরের সাথে আর পেরে উঠলনা সে।আস্তে আস্তে তার দুচোখ বুজে আসলো কিন্তু হটাত করেই জেগে যায় মৃন্ময়ী। নিজেকে বুঝতে চেস্টা করে সে কোথায়?? তারপর হু হু করে কেদে ওঠে। জানালার পাশে রেলিং ধরে খলা আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে পিছন দিকের কথা...।
ফাহিমের সাথে প্রথম তার প্রথম পরিচয় ফেইসবুকে। মৃন্ময়ী তখন নতুন আইডি খুলেছে। হটাত একদিন একটা আইডি থেকে সে ম্যাসেজ পাই।
লিখাঃ
......ঃ বন্ধু হবে??
মৃন্ময়ীঃ এত সহজ??
......ঃ তুমি যদি করে নাও তাহলে সহজ।
মৃন্ময়ীঃ মতলব কি?
......ঃ কিছুনা।।শুধু বন্ধু হতে চাই
এভাবেই কথা হতে থাকে অদের। আস্তে আস্তে অনেক ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। ফাহিম একদিন মৃন্ময়ীর ফোন নাম্বার চাই। মৃন্ময়ী দিয়ে দেয় অকপটে। সারাক্ষণ কথা হত দুজনের। কত নির্ঘুম রাত যে অরা পার করেছে তার কোন হিসাব মহাকালের গণ্ডিতে আসে কিনা জানা নেই।
খুবই সুন্দর চলছিল ওদের। দুজন দুজন কে খুব ভালো বুঝত। প্রতিদিন ওদের দেখা হত। জীবন কে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখত ওরা। কল্পলোকের ধ্রুবতারা হয়ে ভেসে বেড়াত এক অকৃতিম নভোচারী হয়ে। কত মৃদু দুস্টুমিতে মেতে উঠত ওরা সবসময়। মৃন্ময়ীকে কোচিং থেকে বাসায় পৌঁছে দিত। তাদের ভালবাসায় মুখরিত হয়ে উঠত চারপাশ। বন্ধুমহলের সবায় ওদের কে ঈর্ষা করত। দুজনের মাঝে মৃদু ঝগড়া হলেও কথা না বলে থাকতে পারত না কেও। রিকশায় ঘুরে বেড়াতে খুব ভালো লাগত ওদের।
কিন্তু হটাত কি যেন হয়ে গেল।
সেদিন তাজমহল রোড দিয়ে হাটছিল দুইজন। হটাত অপাশে ফুলের দকান দেখল ফাহিম। ফুল গুল মৃন্ময়ীকে দিতে চাইলো। রাস্তার ওপাশে ছুটল ফাহিম। আর তখনি একটি কার এসে তাকে পিসে দিয়ে গেল পিচ ধালা পথে।
সময় যেন থমকে দাঁড়ালো মৃন্ময়ীর। পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছিল, কিছুতেই মানতে পাচ্ছিল না সে।
এক সুন্দর পবিত্র ভালবাসার সমাপ্তি এখানেই ঘটল।
এখন মাঝে তাজমহলের রোডের সেই যায়গাতে একজন তরুণীকে দেখা যায়। দিকভ্রান্ত পথিক হিসেবে ঘোরাঘুরি করে। সময় কি ফিরে পাবার স্বপ্ন হয়তো সে এখনো দেখে।
স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়। কারন যে চলে যায় তাকে ফিরিয়ে দেয়ার সাধ্য কি আছে কারোর???
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন