সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
♣♣ দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ ভেঙ্গে দিচ্ছে ভারত......
·
বাংলাদেশের পশ্চিমে সুন্দরবন সংলগ্ন তালপট্টি দ্বীপটি সুকৌশলে
ভারত ভেঙ্গে দিচ্ছে। বাংলাদেশের
সীমানায় বৃহৎ এ দ্বীপটি যাতে আর গড়ে উঠতে না পারে সেজন্য
ভারত উজানে হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর স্রোত ও পলি নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে
নতুন করে পলি জমতে না পেরে তালপট্টি দ্বীপ আর
উঁচু না হয়ে বরং সম্প্রতি সেখানে ভাঙন শুরু
হয়েছে। ওদিকে
চার-পাঁচ বছর আগে থেকে ভারত বিশ্বব্যাপী প্রচার শুরু
করেছে যে, তালপট্টি দ্বীপটি বিলীন হয়ে গেছে। এর
কোন অস্তিত্ব বর্তমানে আর নেই। কিন্তু
বাস্তবতা হচ্ছে, তালপট্টি দ্বীপের অস্তিত্ব এখনো
আছে এবং ভাটার সময়ে এর চূড়া সামান্য ভেসে ওঠে। কিন্তু
জোয়ারে পুরোপুরি ডুবে যায়। আগে যত দ্রুত
দ্বীপটি গড়ে উঠছিল, বর্তমানে
সেভাবে আর গড়ছে না। তবে বিলীন হয়নি। গত
সপ্তাহেও গুগলের স্যাটেলাইট মানচিত্রে তালপট্টি দ্বীপটির অস্তিত্ব দেখা
গেছে। বাংলাদেশের
প্রখ্যাত সমুদ্র বিজ্ঞান ও ভূগোল বিশেষজ্ঞ, ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক
চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুর রব
এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, দ্বীপটি
রেকর্ডপত্রে বাংলাদেশের। একাত্তরের
স্বাধীনতার পর থেকে ভারত জোরপূর্বক তালপট্টি দখল করে রেখেছে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একবার দ্বীপটির দখল নিয়েছিলেন। এরপর
ভারত সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিরোধের
মীমাংসা না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বিরোধপূর্ণ
এলাকায় বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে স্থায়ীভাবে ঘাঁটি গাড়তে দেয়নি। এর
মধ্যে ভারত একাধিকবার জরিপ করে দেখেছে, তালপট্টি
পুরোপুরি জেগে উঠলে এবং আন্তর্জাতিকভাবে
সমুদ্রসীমার ফায়ছালা হ’লে তারা
কখনোই এর মালিকানা পাবে না। বরং বাংলাদেশ
এর মালিকানা লাভ করলে সমুদ্রসীমায় অনেকদূর এগিয়ে যাবে। তাই
ভারত তালপট্টি দ্বীপটি ভেঙ্গে দেয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ
করে বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা নিয়ে মায়ানমারের
সাথে বাংলাদেশের বিরোধের ব্যাপারে সমুদ্র আইন
বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের (ইটলস) রায়ের পর ভারত এ ব্যাপারে
আরো হিংস্র হয়ে উঠেছে। যাতে তালপট্টির মালিকানা কোনভাবেই
বাংলাদেশ না পেতে পারে এজন্য একদিকে হাড়িয়াভাঙ্গা
নদীর মোহনায় ভারতীয় অংশে গ্রোয়েন নির্মাণ করে
স্রোতের গতি বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, অপরদিকে
নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করে পলি ভিন্ন খাতে
সরিয়ে দিচ্ছে।
এ অবস্থায় মিয়ানমারের
পর এবার ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে দক্ষিণ তালপট্টি
দ্বীপ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে যদিও বাংলাদেশ প্রচন্ড আশাবাদী হয়ে উঠেছে,
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আশায় গুড়েবালি পড়তে পারে বলেই আশংকা করা
হচ্ছে। এদিকে সরকারের মেরিটাইম বিশেষজ্ঞ ও
সমুদ্র অঞ্চল সীমানা রক্ষা কমিটিসহ
সংশ্লিষ্ট মহল এবং উপকূলবর্তী সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের স্বপ্ন, আস্থা
ও বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে যে, সেন্টমার্টিনের
মতো তালপট্টি দ্বীপও বাংলাদেশের
সমুদ্রসীমা বৃদ্ধিতে হয়তো বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তাদের
দাবি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আইনী লড়াইয়ে
জোরালোভাবে তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে
দক্ষিণ তালপট্টিসহ বিশাল সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
চূড়ান্ত করা হোক। দক্ষিণ তালপট্টি দখল করে নেয়ার পক্ষে
কোন যৌক্তিক বা আইনগত দাবি নেই ভারতের। তারা
যে এটি জবর দখল করে রেখেছে দীর্ঘদিন,
তার বিপরীতে জোরালো কোন পদক্ষেপও নেয়া হয়নি বাংলাদেশের পক্ষ
থেকে। দক্ষিণ তালপট্টি বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের
বলে প্রমাণিত হ’লেও ভারত গায়ের
জোরে বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছিল। এখন
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে এটা
ফেরতের পথ সুগম হওয়ার আগেই ভারত চালাকি করে দ্বীপটি ধ্বংসের পথ বেছে
নিয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের
অগভীর সামুদ্রিক এলাকায় জেগে ওঠা উপকূলীয়
দ্বীপ দক্ষিণ তালপট্টি। বাংলাদেশের সাতক্ষীরা
যেলার শ্যামনগর এবং পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা যেলা বসিরহাটের মধ্যস্থল
হাড়িয়াভাঙ্গা নদী দ্বারা চিহ্নিত সীমান্ত রেখা বরাবর হাড়িয়াভাঙ্গার
মোহনার বাংলাদেশ অংশে অগভীর সমুদ্রে দ্বীপটির অবস্থান। দ্বীপটি
গঙ্গা বা পদ্মা নদীর বিভিন্ন শাখা নদীর পলল অবক্ষেপণের ফলে গড়ে উঠেছে। হাড়িয়াভাঙ্গা
মোহনা থেকে দ্বীপটির দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার। দক্ষিণ
তালপট্টি দ্বীপের সরাসরি উত্তরে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড এবং
সর্ব-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। দ্বীপটির
বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার। ১৯৭০ সালের
নভেম্বরে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় গাঙ্গেয় ব-দ্বীপাঞ্চলের
দক্ষিণভাগে আঘাত হানার পর পরই
দ্বীপটি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রথম দৃষ্টিগোচরে আসে। তৎকালীন
খুলনা যেলা প্রশাসন নৌবাহিনীর সহযোগিতায় প্রাথমিক জরিপ শেষে প্রশাসনিক
দলিলপত্রে নথিভুক্ত করে দ্বীপটির নামকরণ করে দক্ষিণ তালপট্টি। ভারত
তখন এ ব্যাপারে কোন উচ্চবাচ্য করেনি। অথচ ১৯৭১
সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বীপটি ‘নিউমুর দ্বীপ’
নামে অবহিত করে রাতারাতি দখল করে নেয়। স্বাধীনতা
যুদ্ধের অস্থির সময়ে দ্বীপটির
দখলদারিত্ব তখন আর বাংলাদেশ বা পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রতিষ্ঠা
করা সম্ভব হয়নি। পরে ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইআরটিএস
ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে স্বল্প ও গভীর সামুদ্রিক পানিতে জেগে ওঠা
এই ডুবন্ত ভূখন্ডের জরিপ করা হয় এবং দ্বীপটি
বাংলাদেশ অংশে বলে প্রমাণিত হওয়ায় রেকর্ডভুক্ত
করা হয়। এরপর
থেকেই বিষয়টি নিয়ে হৈ চৈ হ’তে থাকে। কিন্তু
প্রতিবাদ জোরালো না হওয়ায় দীর্ঘসময় ধরে দ্বীপটি ভারতের অবৈধ
দখলে রয়ে গেছে। দক্ষিণ
তালপট্টি দ্বীপের চারপাশ দশ কিলোমিটার বিস্তৃত। এখানে
উপকূলীয় সমুদ্রের গড় গভীরতা মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৫
মিটার। দ্বীপটি
থেকে সোজা প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দক্ষিণে
গভীর সামুদ্রিক খাত বা অতলান্তিক ঘূর্ণাবর্তের (সোয়াচ অব
নো গ্রাউন্ড) অবস্থান। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী
দ্বীপটি ও এর চার পাশের ভূরূপতাত্বিক অবস্থা এবং
সংলগ্ন হাড়িয়াভাঙ্গা ও রায়মঙ্গল নদী দু’টির
জলতাত্বিক প্রক্রিয়া থেকে ধারণা করা হয়, অদূর ভবিষ্যতে
এটি উত্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের
মূল ভূখন্ড তালপট্টির সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। দেশের
দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মংলা ও সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম বিশেষজ্ঞ এবং
সমুদ্র সম্পদ পর্যবেক্ষকদের অভিমত, আয়তনের
দিক থেকে দক্ষিণ তালপট্টি অত্যন্ত ক্ষুদ্র দ্বীপ হ’লেও
ভূ-রাজনৈতিক নিরিখে দ্বীপটির গুরুত্ব অপরিসীম। উপকূলীয়
দ্বীপটির মালিকানার সাথে জড়িত রয়েছে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের
বিশাল সমুদ্রাঞ্চলের সার্বভৌমত্বের স্বার্থ। তাই
সালিশি নিষ্পত্তির মাধ্যমে শুধু দক্ষিণ
তালপট্টি নয়, সমুদ্রসীমার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক
জোনকে নিষ্কণ্টক করা একান্ত যরূরী। বাংলাদেশের
উপকূল থেকে দক্ষিণে প্রায় ৫শ’ কিলোমিটার
পর্যন্ত মহীসোপানের বিস্তৃতি। এই
অগভীর সমুদ্রাঞ্চলের মোট আয়তন কমপক্ষে সাড়ে ৩ লাখ বর্গমাইল। আন্তর্জাতিক
সমুদ্র আইনের সর্বশেষ নীতি অনুযায়ী নিজ দেশের উপকূলীয়
সংলগ্ন মহীসোপানের যাবতীয় সমুদ্র সম্পদরাজির ব্যবহার ও মালিকানা স্বত্ব
ভোগ করার একচ্ছত্র অধিকার সে দেশের রয়েছে। দক্ষিণ
তালপট্টি মালিকানার সাথে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের
স্বাভাবিক সীমার অতিরিক্ত কমপক্ষে ২৫ হাযার
বর্গামইল সমুদ্রাঞ্চলের স্বার্থ জড়িত। দ্বীপটির
দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমে হাযার
হাযার বর্গকিলোমিটার সংরক্ষিত অর্থনৈতিক
অঞ্চলে মৎস্য ও তেল-গ্যাস ক্ষেত্রসহ বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক সম্পদ
রযেছে। ঐ
এলাকার সমুদ্রতলে লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ,
এ্যালুমিনিয়াম, তেজস্ক্রীয়
ভারী খনিজ পদার্থ ইত্যাদির বিপুল সঞ্চয় রয়েছে। এর
প্রমাণ পাওয়া গেছে বঙ্গোপসাগরের অগভীর
মহীসোপান তলদেশে খনিজ তৈল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বড়
ধরনের সঞ্চয় আবিষ্কৃত হওয়ায়। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের ঐ সামুদ্রিক এলাকায়
অর্থনৈতিক মৎস্য অঞ্চল গঠিত। এটি
৩টি ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন
দ্বীপের কাছে সাউথ প্যাসেজ, দ্বিতীয়টি
বরগুনা-পটুয়াখালীর কাছে মিডল প্যাসেজ
এবং খুলনা-সাতক্ষীরা ও সুন্দরবনের কাছে ইস্ট প্যাসেজ। বাংলাদেশের
দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কোলে অবস্থিত মূল সুন্দরবন। ভারতের
২৪ পরগনার দক্ষিণ ভাগও সুন্দরবনের অংশবিশেষ। পশ্চিমে
ভাগীরথি নদীর মোহনা থেকে পূর্বে
মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সুন্দরবন বিস্তৃত। সংশ্লিষ্ট
সূত্রমতে, ৬ হাযার
১৭ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত সুন্দরবনের ৪ হাযার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার ভূ-ভাগ
আর ১ হাযার ৮৭৪ বর্গমিলোমিটার জলভাগ। বর্তমানে
সুন্দরবন ঘিরে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অংশে
বিভিন্নভাবে ভারতীয়দের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা
চলছে। সমুদ্র
অঞ্চল সীমানা রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ নুর
মোহাম্মদ এক সাক্ষাৎকারে জানান, দীর্ঘদিনের
দাবির প্রেক্ষিতে মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের
সমুদ্রসীমা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে নির্ধারণ হয়েছে। তাতে
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি যাই থাক, একটি দীর্ঘ
বিতর্কের অবসান হয়েছে। তবে
এখানে কোন ভুল বা অপাপ্তি থাকলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে ভারতীয়দের
সাথে আরো কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিক আদালতে লড়তে হবে। এ
অবস্থায় বঙ্গোপসাগরে শুধু মালিকানা প্রতিষ্ঠা
করলেই হবে না, এর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণও নিতে
হবে বাংলাদেশকে। তিনি বলেন, কমিটির
সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়াল এ্যাডমিরাল
খোরশেদ আলমসহ নেতৃবৃন্দ ১৯৮২ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন পাস হওয়ার
পর থেকে বহু দেন দরবার করেছে বিভিন্ন পন্থায়। এখন
ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ ও বিরোধ
নিস্পত্তি হওয়া যরূরী। এক্ষেত্রে দক্ষিণ তালপট্টি
দ্বীপসহ ঐ এলাকার বিরাট সমুদ্রাঞ্চলে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার
মতে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ভারতের
বিরুদ্ধে আইনি লড়াই জোরদার করতে হবে। এজন্য
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপে প্রয়োজনে যৌথভাবে বা আন্তর্জাতিকভাবে
জরিপের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ভারতীয়রা কোন কৌশলে দ্বীপটি ভেঙ্গে
দেওয়ার অপচেষ্টা করলে সেটাও আন্তর্জাতিক আদালতের নযরে আনতে হবে। এ
ব্যাপারে কোনরূপ ঢাকঢাক গুড়গুড় করার সুযোগ নেই। এখনই
কঠোর না হ’লে আমাদের অস্তিত্ব
হুমকির মুখে পড়বে।
বিজিবি সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমসহ
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় হাযার হাযার বিঘা জমি ভারত
জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। যা
নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে জরিপ ও বৈঠক চলছে, কিন্তু কোন
সুরাহা হয়নি। ভারত
দ্বিপাক্ষিকভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলে কালক্ষেপণ করে চলেছে। কাগজপত্র
ও রেকর্ডে জমি বাংলাদেশের থাকলেও ভারতীয়রা যুক্তির পরিবর্তে
গায়ের জোরে সব ভোগদখল করছে। একইভাবে সমুদ্রাঞ্চলে তালপট্টিসহ
বিরাট এলাকায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে আছে ভারত। ভারতের
দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ ও কার্যকলাপ
সম্পর্কে পর্যবেক্ষকদের অভিমত, প্রতিবেশীদের
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের বিন্দুমাত্রও শ্রদ্ধাবোধের
নমুনা পাওয়া যায় না। প্রতিবেশীকে
বরাবরই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও কব্জার মধ্যে রাখতে তারা
আগ্রহী। বাংলাদেশের
ভূখন্ডে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি গায়ের জোরে দখল করে
নেয়া তার বড় প্রমাণ। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিষয়টির
নিষ্পত্তির ব্যাপারে রাজনৈতিক, সামাজিক
সংগঠন, সচেতন ও পর্যবেক্ষক মহল জোর দাবী
তুলেছেন। সমুদ্র অঞ্চল সীমানা রক্ষা জাতীয় কমিটির
আহবায়ক মোহাম্মদ নূর মোহাম্মদ আরো
জানান, অনতিবিলম্বে সরকারকে একটি সমুদ্র
বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার
আওতায় থাকবে একটি সমুদ্র অধিদপ্তর। একইসাথে
আন্তর্জাতিক সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের
দাবিতে পরিণত হয়েছে। যেভাবেই
হোক বিশাল সমুদ্র সম্পদকে সুরক্ষা করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের
স্থলভাগের চেয়ে অনেক বেশী সম্পদ রয়েছে সমুদ্রে। এই
বঙ্গোপসাগরে যেসব নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ ও
প্রবাহ ঐতিহাসিকভাবে যেভাবে এসে মিশেছে সেটাও অধিকভাবে
রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ভারত যেন বাঁধ দিয়ে এই গতিপথ ও প্রবাহ
পরিবর্তন করতে কিংবা ঘুরিয়ে দিতে না পারে, সে
ব্যাপারেও আন্তর্জাতিক আদালতের
দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।
[সংকলিত] — with Nazrul Islam
and 13
others.
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন